মুহতামিমাহর বাণী:
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি রব্বুল আলামীন। সৃষ্টি করেছেন মানুষ। শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন। অসংখ্য, অগণিত দুরূদ ও সালাম বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত জনাবে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর, যিনি আধার ঘেরা মরুর বুকে আলোর প্রদীপ হাতে নিয়ে জাহেলিয়াতের অমানিষার বিলুপ্তি সাধন করে হেদায়েতের রশ্মির মাধ্যমে গোটা বিশ্ব জগতকে করেছেন আলোকময়।
“মদিনাতুল উলুম নাছিমা আক্তার কাওমী মহিলা মাদরাসা” একটি ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা জনাবা নাছিমা আক্তার সাহেবান স্সদকায়ে জারিয়া, নেক আশায়, পরকালে মুক্তির আশায় নিজস্ব উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। তাহার পরিশ্রমে দ্বীনি তা'লীম ও তারবিয়াতের মানোন্নয়ন ও সমাজের সর্বত্র প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান পৌছানোর মাধ্যমে সমাজ হতে নিরক্ষরতা ও মূর্খতা দুরীকরণের খিদমত আঞ্জাম দিতে ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নান্দাইল থানাধীন ৩নং নান্দাইল ইউনিয়নের ভাটি সাভার গ্রামে অবস্থিত। ২০২৫ ঈ. সনে অত্র মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে অদ্যাবধি এ প্রতিষ্ঠানটি দেশ ও জাতির দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে। আলহামদুলিল্লাহ, মাদরাসাটি তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষাদানের পাশাপাশি আরো বহুমুখী খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে।
আলহামদু লিল্লাহ, আমি আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম হিসেবে আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালার উপর তাওয়াক্কুল করে বলতে পরি “মদিনাতুল উলুম নাছিমা আক্তার কাওমী মহিলা মাদরাসা”, ভাটি সাভার, নান্দাইল, ময়মনসিংহ আল্লাহর অশেষ রহমতে ও করুনায় দিন দিন উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই মাদরাসা কুরআন-হাদীসভিত্তিক সহিহ আকীদা ও আমল শেখানোর মাধ্যমে এমন এক প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায়, যারা দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করবে। সেই সাথে দোয়া করি, হে আল্লাহ! আপনি এই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা জনাবা নাছিমা আক্তার ও তাহার পরিবারের, আমাদের সকলের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন; হে আল্লাহ! আপনি তাদেরকে ও আমাকে ভালো কাজ করা এবং উত্তম চরিত্র অর্জনে প্রফুল্ল দান করুন, আপনি তাদেরকে ও আমাকে শক্তি দান করুন এবং সুপথ দিন। কেননা আপনি ছাড়া কেউ ভালো কাজ করার এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দিতে পারে না। আমিন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাদেরকে জীবিত রেখেছেন ইসলামের উপর জীবিত রাখেন আর যাদেরকে মৃত্যু দান করেছেন তাদেরকে ঈমানের সঙ্গেই মৃত্যু দান করেন।’ আমিন تهنئاتياسيداتতাহানিআত, ইয়া সাইয়্যিদত।
শিক্ষার্থীর ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিভা বিকাশে অহির শিক্ষাই শ্রেষ্ঠতম পদ্ধতি। প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্বের নিত্য-নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় এ প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনায় এ ওয়েবসাইটটির আত্মপ্রকাশ। কোনো সন্দেহ নেই বর্তমানে দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর (মাদরাসা) অস্তিত্ব মুসলমানদের জন্য আল্লাহর অনেক বড় অনুগ্রহ। এসব চার দেয়ালের দুর্বল মাদরাসাগুলো ইসলাম রক্ষায় বড় অবলম্বন। কেননা ইসলাম হলো বিশুদ্ধ বিশ্বাস ও আমলের নাম। যার মধ্যে দ্বীনদারি, মুআমালাত, মুআশারাত ও আখলাক-চরিত্র সবই অন্তর্ভুক্ত। আমল নির্ভর করে ইলমের ওপর, আর দ্বীনি ইলমের অস্তিত্ব যদিও মৌলিকভাবে মাদরাসার ওপর নির্ভরশীল নয়; কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে দ্বীনি শিক্ষা মাদরাসার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষত যেহারে ধর্মহীনতা, ধর্মবিদ্বেষ ও পাপাচার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মানুষ দুনিয়ামুখী হচ্ছে, তাতে মাদরাসা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরো প্রবলভাবে অনুভূত হয়।
বর্তমানে মাদরাসাগুলোর ব্যাপারে নানা ধরনের অভিযোগ শোনা যায়। পারস্পরিক বিরোধের মতো ঘটনাও সেখানে ঘটে। তবু মাদরাসাগুলো অর্থহীন নয়। সব ধরনের অধঃপতন ও বিরোধ সত্ত্বেও মাদরাসা শিক্ষা থেকে মুসলিম সমাজ যতটুকু উপকৃত হচ্ছে সেগুলোর বিবেচনায় মাদরাসার অস্তিত্ব অপরিহার্য। তাই সব মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো মাদরাসা শিক্ষার সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসা। সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি সংশোধন করার যথাসাধ্য চেষ্টাও চালিয়ে যেতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, "خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ" — তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায় (বুখারী)। এই হাদীসকে সামনে রেখে আমরা কুরআন কেন্দ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। নারীদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে ইসলামে অনেক হাদীস পাওয়া যায়, যা প্রমাণ করে যে, ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জ্ঞান অর্জন ফরজ। নিচে কিছু হাদীসের উদাহরণ দেওয়া হলো:
আমার সম্মানিত প্রাণপ্রিয় ভাইয়েরা ও বোনেরা! আপনারা জনেন যে, দুনিয়ার সামান্য সামান্য জিনিসও শরীয়ত এবং আদবের অনুসরণ ব্যতীত অর্জন হয় না। তাহলে ভাবার বিষয় যে, ইলমের মত উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন একটি সম্পদ (যা আল্লাহ্ তায়ালার গুণাবলীর একটি এবং আল্লাহর নূর) ইহা শরীয়তের পাবন্দী ও আদবের অনুসরণ ছাড়া কীভাবে অর্জন হবে? নিঃসন্দেহে এর জন্যও কিছু আদব রয়েছে। আর আমাদের আকাবিরগণ তো ইলম হাসিলের জন্য অনেক বড় বড় চেষ্টা মেহনত করেছেন। অতপরঃ অন্তরের মাঝে ইলমী একাগ্রতা এবং আল্লাহ্ ও আল্লাহর রাসূলের মোহাব্বতের প্রেরণা সৃষ্টি হবে। যদি কোন কারণ বশতঃ কামেল শায়খের সাথে সম্পর্ক না হয় তাহলে আকাবিরগণের জীবনী এবং তাদের লিখিত কিতাবাদী মুতাআলা করবে। ইন্শাআল্লাহ্! আখেরাতের চিন্তা এবং আত্মশূদ্ধির প্রেরণা অন্তরে সৃষ্টি হবে। এবং আশা করা যায় যে ঈমান-আমল নিরাপদ থাকবে। নবুয়াতের সত্যিকারের যোগ্য ওয়ারিশ হওয়ার সৌভাগ্যে ধন্য হতে পারবে। আল্লাহ্ তায়ালা সকলকে আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমিন। আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র দ্বীনি জ্ঞান অর্জন নয়, বরং তাকওয়া ও ইনসাফপূর্ণ জীবন গঠনের মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ গঠন। এ মহান লক্ষ্যে আমরা আল্লাহর সাহায্য ও সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর সহযোগিতা কামনা করি।হে আল্লাহ,আপনি তাওফীক দান করুন।
“সুবহানাল্লহি ওয়াবিহামদিহি, সুবহানাল্লহিল আযীম” সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা আশহাদুআল্লা-ইলাহা ইল্লা আনতা আসতাগফিরুকা ওয়াতুবু ইলাইক”।
والسلام
আপনাদের দ্বীনি খাদেম,
আলেমা তাযকিয়াতুল জান্নাত ইলমা
মুহতামিমাহ'
মদিনাতুল উলুম নাছিমা আক্তার কাওমী মহিলা মাদরাসা
ভাটি সাভার, নান্দাইল, ময়মনসিংহ।
মোবাইল : ০১৩৩৫৫৫৪৮৮৮