সদস্য
আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, হিদায়াত দিয়েছেন এবং দ্বীনের খেদমতের মতো মহৎ কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
আমি বিনম্র হৃদয়ে জানাতে চাই যে, আমার প্রিয়তমা মাতা মোসাম্মাৎ নাছিমা আক্তার এর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং নারী শিক্ষাকে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে আরও বিস্তৃত করতে মদিনাতুল উলূম নাছিমা আক্তার কাওমী মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ। আমি বিশ্বাস করি, নেক নিয়তে করা এই কাজ কিয়ামত পর্যন্ত সাদকায়ে জারিয়া হিসেবে আমার মা-বাবার রূহের মাগফিরাতের মাধ্যম হবে, ইনশাআল্লাহ।
এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা কেবল একজন ছাত্রীকে আলিমা বানিয়ে বিদায় দিতে চাই না; বরং ইসলামের আলোকে গড়া আদর্শ মা, যোগ্য স্ত্রী এবং সমাজ গড়ার যোগ্য রাহবার তৈরি করতে চাই, যারা নিজেদের জীবনে ইসলাম বাস্তবায়ন করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইসলামী চেতনায় গড়ে তুলবে।
প্রতিষ্ঠান গঠনের শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতা, সীমিত সম্পদ, অসংখ্য বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আমারা এই পথ চলা শুরু করি। আল্লাহর অশেষ কৃপায় আজ এই প্রতিষ্ঠান দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে মক্তব, হিফজুল কুরআন, নাযেরা, আরবি ও ইসলামি স্টাডিজ, এবং শিশুদের চারিত্রিক গঠনমূলক পাঠদান চলমান রয়েছে। আমার ইচ্ছে, এই মাদরাসা হবে এমন এক দ্বীনি নূরের মিনার, যেখান থেকে জাতি পাবে হকপন্থী আলেম, সমাজসেবক, নৈতিকতা-বান মানুষ এবং আল্লাহভীরু নেতৃত্ব। আমি একাগ্রতায় দিনরাত এ মাদরাসার উন্নয়ন ও প্রসারে কাজ করছি—কারণ এটি আমার হৃদয়ের অংশ, আমার জীবনের মূল আশা, আমার পরকালীন মুক্তির বাহন। এ জন্য দরকার মান সম্পন্ন ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা আধুনিক মাদ্রাসা। যেখানে শিক্ষক, অবিভাবক ও রাষ্ট্র সকলের সার্বিক সহযোগিতায় শিক্ষার পরিবেশ ও মান বজায় থাকবে। বর্তমান সময়ে সমাজের প্রতিটি স্তরে যেভাবে অপরাধ মুলক কর্মকান্ড ছডিয়ে পড়ছে এবং ইসলামের সঠিক আদর্শ থেকে মানুষ দূরে সরে যাচ্ছে যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। বিষেশতঃ সমাজের ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অধঃপতন আমাকে প্রচন্ডভাবে ভাবিয়ে তোলে | সমাজের এই অবস্থা দূর করে, ইসলামী সমাজ বিনির্মান একদল দক্ষ আলেমে-দ্বীন ব্যতিত সম্ভব নয়।
বর্তমান সময়ে যখন নারী শিক্ষা একদিকে আধুনিকায়নের নামে ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে, তখন অপরদিকে প্রয়োজন ছিল এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার—যেখানে নারীরা দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি মূল্যবোধ, চরিত্র ও আদর্শিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। আমাদের এই মাদরাসা সেই শূন্যতা পূরণে এক নিরলস প্রয়াস।
মাদরাসাটি এখনো উন্নয়নের ধারায় রয়েছে। স্থায়ী ভবন নির্মাণ, আবাসিক ব্যবস্থা, লাইব্রেরি, আধুনিক পাঠদানের উপকরণসহ আরও অনেক পরিকল্পনা সামনে রয়েছে। আপনাদের সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও ভালবাসা পেলে মাদরাসাটি ভবিষ্যতে একটি আদর্শ, স্বয়ংসম্পূর্ণ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ। আমাদের উদ্দেশ্য হলো—শুদ্ধ কুরআন শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের হৃদয়ে আল্লাহভীতি, রাসূলপ্রেম, দেশপ্রেম ও চরিত্র গঠনের বীজ বপন করা। যেন তারা দ্বীন ও দুনিয়ার সফলতার পথে পরিচালিত হয়। আমি কৃতজ্ঞ সকল অভিভাবক, শুভানুধ্যায়ী, শিক্ষক এবং ছাত্রদের প্রতি, যাদের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় আমাদের এ পথচলা সম্ভব হয়েছে।
পরিশেষে, দোয়া করি—আল্লাহ এই প্রতিষ্ঠানকে কবুল করুন, একে বরকতময় করুন, এবং আমার মা’কে নেক হায়াত দিন, কোরআনের খাদেস হিসেবে কবুল করেন, পরহেগার বানান ও জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুন।দেশ-বিদেশে অবস্থানরত দ্বীনদার ভাই-বোনদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি—আপনারা আমাদের পাশে থাকুন, দোয়া করুন এবং সম্ভব হলে আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসুন। আমাদের মেয়েদের দ্বীনি শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে সহায়তা করুন। আল্লাহ আমাদের সকলকে কবুল করুন।আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।