হিফজুল কুরআন
হিফজ বিভাগ (কুরআন মুখস্থকরণ)
লক্ষ্য:
• আল্লাহর কালামকে হেফজ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাফেজা হিসেবে গড়ে তোলা।
• মন-মগজকে কুরআনের সাথে সম্পর্কিত করা।
শিক্ষার ধরন ও পদ্ধতি:
• প্রবেশের শর্ত: নাযেরা উত্তীর্ণ, অত্যন্ত মেধাবী ও নিয়মানুবর্তী শিক্ষার্থী বাছাই করা।
• ক্লাস পদ্ধতি: Highly disciplined ও individual attention ভিত্তিক।
• সিলেবাস:
o ক্রম: সাধারণত ৩০তম পারা (আম্মা পারা) থেকে শুরু করে ১ম পারার দিকে অগ্রসর হওয়া। তবে প্রতিষ্ঠানের নীতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
o দৈনিক Target: বয়স ও ক্ষমতা অনুযায়ী দৈনিক নতুন আয়াত মুখস্থ (সাবক) নির্ধারণ। (যেমন: ১/২ পৃষ্ঠা, ১/২ রুকু)।
o পুরনো সাবক: Previously মুখস্থকৃত অংশের পুনরাবৃত্তি। এটি হিফজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
• শিখন পদ্ধতি:
o সাবক দেওয়া: শিক্ষক প্রতিদিন নতুন lesson (সাবক) শুদ্ধ করে দিয়ে দেবেন এবং মুখস্থ করতে বলবেন।
o শুনানো (দোর): শিক্ষকের কাছে গিয়ে আগের সব মুখস্থকৃত অংশ (দোর) প্রতিদিন শুনাতে হবে। এটি individual test।
o তাজউইদ নিখুঁততা: মুখস্থ করার পাশাপাশি প্রতিটি আয়াতের তাজউইদ must be perfect।
o সময় ব্যবস্থাপনা: দিনের একটি fixed সময় থাকেব: F রুটিন অনুযায়ীpecially হিফজের জন্য নির্ধারণ।
o প্রেরণা ও তালিম: হিফজের ফজিলত, সাহাবীদের গল্প দিয়ে তাদের প্রেরণা দেওয়া।
হিফয বিভাগের কানুন সমূহঃ
(ক) যে সমস্ত ছাত্র পূর্ণ কুরআন মাজীদ তাজভীদ সহ হদর পড়ার উপযুক্ত বিবেচিত হবে বয়স ১৩ বৎসরের উর্ধে না হবে এবং মেধা তালিকায় উচ্চমানের হবে। ঐ সমস্ত ছাত্রদের হিফয বিভাগে ভর্তির অনুমতি দেয়া হবে।
(খ) হিফয বিভাগের নেসাব নি¤œরূপ (কমপক্ষে) ১ম বছর=৮ পাড়া, ২য় বছর=১০ পাড়া, ৩য় বছর ১২ পাড়া, পরবর্তী এক বছর শুনানো। ব্যতিক্রমে অর্থাৎ নেসাব থেকে কম হলে এাদ্রাসায় হিফয বিভাগে পড়ার সুযোগ থেকে সে বঞ্চিত হবে।
(গ) রীতিমত ছবক, আমুখতা সাত ছবক শুননো অপরিহার্য।
(ঘ) হিফয খানার ঐ সমস্ত ছাত্র হতে পারবে যারা হিফজ শেষ করে কওমী মাদরাসায় পড়ে হক্কানী আলেম হওয়ার দৃঢ় সংকল্প রাখে।
(ঙ) হিফজ রুটিন ঃ
(১) মাগরিব বাদ ইশার আযান পর্যন্ত ইয়াদ
(২) অতঃপর রাত ১০ টা পর্যন্ত তেলাওয়াত।
(৩) রাত ১০ টা থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত ঘুম।
(৪) ভোর ৪ টা থেকে ফজর পর্যন্ত অজু ইস্তেঞ্জা ও ১৫ মিনিট ছবক শুনানো।
(৫) অতঃপর নাস্তা পর্যন্ত বাকী ছবক, সাত ছবক শুনানো।
(৬) নাস্তার পর বাকী সাত ছবক শুনানো ৯ টা পর্যন্ত।
(৭) ৯.৩০-১০.৩০ পর্যন্ত তাজবীদ ইত্যাদি শিক্ষা করা।
(৮) ১২.০০-১.০০ পর্যন্ত আমুখতা শুনানো।
(৯) যোহর-মাগরিব বিরতী ও তাফরীহ।
(১০) ফারেগীনরা রাহে নাজাত পড়বে।
(১১) প্রতি বৃহস্পতিবার বিকাল শুক্রবার ইশা পর্যন্ত সাপ্তাহিক দাত্তর। উল্লেখ্য মাওসুমের পরিবর্তনের রুটিনের মধ্যে কিছু পরিবর্তন হতে পারে।
(চ) হিফজ বিভাগের সকল ছাত্র নিজ উস্তাদদের সম্মুখে বসে চবক সাত ছবক ও আমুখতা ইয়াদ করবে। বাড়িতে বা অন্য কোথাও ইয়াদ করতে পরবে না।
(ছ) পড়ার সময় উস্তাদ অনুপস্থিত থাকলেও রীতিমত পড়তে থাকবে। এদিক ওদিক তাকাবে না। আপোষে গল্প গুজব করবে না। বিনা দরকারে বাইরেও যাবে না।
(জ) আপোষে একে অপরের পড়া বলে দিতে বা শুনতে কখনও অবহেলা করবে না।
(ঝ) সম্পূর্ণ কুরআনের হাফিযগণ নিচের ছাত্রদের ছবক সহীহ করে দিবে। সহীহ করার পর উস্তাদগণেকে শুনাবে। ছবকে ভূল থাকলে শ্রবণকারীকে কৈফিয়াত দিতে হবে।
আরও তথ্যের জনআমাদের আরেকটি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব সিলেবাস বা সিলেবাসের কিছু অংশ দেখতে পারেন jamiatuluthfur.com